শ্রীপুরে মাদকের অন্ধকার জগৎ উন্মোচিত: পুলিশের অভিযানে হত্যা ও ষড়যন্ত্রের রহস্য ফাঁস

গাজীপুরের শ্রীপুরে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে মাদক কারবারিদের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। পুলিশের তদন্তে জানা যায় যে, দীর্ঘদিন ধরে শ্রীপুর এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন হুমায়ুন কবির ও তার সহযোগীরা। বিশেষ করে, শ্রীপুর থানার এফআইআর নং- ০৮/১৭৩ (তারিখ: ০৫ মার্চ, ২০১৯) অনুসারে, মাওনা দক্ষিণ পাড়ায় মাদক সম্রাট মোঃ কবির মিয়ার বসতবাড়িতে অভিযান…

গাজীপুরের শ্রীপুরে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে মাদক কারবারিদের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। পুলিশের তদন্তে জানা যায় যে, দীর্ঘদিন ধরে শ্রীপুর এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন হুমায়ুন কবির ও তার সহযোগীরা। বিশেষ করে, শ্রীপুর থানার এফআইআর নং- ০৮/১৭৩ (তারিখ: ০৫ মার্চ, ২০১৯) অনুসারে, মাওনা দক্ষিণ পাড়ায় মাদক সম্রাট মোঃ কবির মিয়ার বসতবাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৭ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য ১,০৫,০০০ টাকা। অভিযানে আসামি হিসেবে মোঃ দিদার মিয়া, মোঃ কবির মিয়া এবং মোছাঃ দীনা আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়। একইভাবে, শ্রীপুর থানার এফআইআর নং- ৫৯/৬২০ (তারিখ: ২৪ অক্টোবর, ২০১৭) অনুযায়ী, মাওনা কলেজের পেছনের রোডের পূর্ব পার্শ্বে বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুত রাখা ২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য ২০,০০০ টাকা। এ ঘটনায় মোর্শেদ আলম, দিনা আক্তার ও রাজিবকে আসামি করা হয়।

সম্প্রতি, পোশাক শ্রমিক রেজাউল করিম হত্যাকাণ্ডের তদন্তে উঠে আসে যে, হত্যার পর ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি হুমায়ুন কবির কিনে রেখেছিলেন। গ্রেফতার হওয়া তিন আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে হুমায়ুন কবিরের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মেলে। এ ঘটনার পর পুলিশ হুমায়ুন কবিরের বাড়িতে অভিযান চালায় এবং সেখান থেকে ৩৫ পিস ইয়াবা ও ২৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করে। তবে, অভিযানের সময় হুমায়ুন ও তার সহযোগীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে। শ্রীপুর থানার ওসি জয়নাল আবেদীন মণ্ডল জানান যে, হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে এবং তিনি মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে নিজের অপরাধ ঢাকার চেষ্টা করছেন। পুলিশের ওপর হামলার মাধ্যমে তিনি আইনি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে চেয়েছেন, যা তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডেরই প্রমাণ।

এ ঘটনাকে ঘিরে কিছু সংবাদমাধ্যম হুমায়ুন কবিরকে নির্দোষ হিসেবে প্রচার করার চেষ্টা করছে বলে পুলিশের অভিযোগ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ও হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে এবং তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পুলিশের মতে, কিছু গণমাধ্যম সত্য ঘটনা প্রকাশ না করে অপরাধীদের পক্ষে মিথ্যা তথ্য প্রচার করছে, যা বিচারিক প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

শ্রীপুরে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান ও হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সংঘাতের ঘটনায় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তদন্তে হত্যাকাণ্ড ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে হুমায়ুন কবিরের জড়িত থাকার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে, এবং পুলিশ তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া, এফআইআর অনুযায়ী অতীতের মাদক মামলাগুলোতে মোঃ কবির মিয়া, মোঃ দিদার মিয়া, মোছাঃ দীনা আক্তার, মোর্শেদ আলম ও রাজিবের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, যা শ্রীপুরে মাদক নেটওয়ার্কের গভীরতা তুলে ধরে। সামগ্রিকভাবে, শ্রীপুরে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা দরকার এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

Tags:

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started